টিকটক লাইট থেকে ৩০ থেকে ৫০k ৳ ইনকাম করার জনপ্রিয় পদ্ধতি ( ২০২৫ আপডেট )

কম বয়সে ধনী হওয়ার উপায়

 আপনি কি অনলাইন প্লাটফর্ম থেকে খুবি ইজি পদ্ধতিতে টাকা ইনকাম করতে চান? চিন্তা করছেন যদি ঘরে বসে মাত্র কয়েক ঘন্টা শ্রম দিয়ে মাসে মাসে বেতন তোলা যেত, তাহলে আমার জন্য খুব বেশি ভালো হতো। তাহলে হ্যা বন্ধু, আজের এই পোস্টটি আপনার জন্য টিকটক লাইট হতে পারে আপনার জন্য একটি দুর্দান্ত সুযোগ! এটি মূলত টিকটকের একটি লাইট ভার্সন, যেখানে ভিডিও দেখার মাধ্যমে এবং বন্ধুদের রেফার করেই মাসে ৩০,০০০ থেকে ৫০,০০০ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব।🤑 

টিকটক লাইট থেকে ৩০ থেকে ৫০k ৳ ইনকাম করার জনপ্রিয় পদ্ধতি ( ২০২৫ আপডেট )

টিকটক লাইট থেকে আপনি যদি ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা আয় করতে চান প্রতি মাসে তাহলে আপনাকে কিছু কৌশল অবলম্বন করে কাজ করতে হবে এবং এতে ধৈর্যের প্রয়োজন। কিভাবে কাজ করবেন, কোথা থেকে শুরু করবেন, একাউন্ট বানানো থেকে এ টু জেড বিস্তারিত খুবি নিখুত ভাবে এই পোস্টে বর্ণণা করা হবে। এমন ইজি প্রোসেজ দেখিয়ে দেওয়া হবে আপনি যাতে কাজ শুরু করে প্রথম মাসের শেষের দিকে আপনার উপার্জন উত্তল করতে পারেন। 

টিকটক লাইট থেকে কিভাবে আয় করবেন

১/  স্পন্সারশিপ ও ব্র্যান্ড ডিল নিয়ে আয় করুন

আপনি যদি নিয়মিত আকর্ষণীয় কনটেন্ট তৈরি করতে পারেন এবং ভালো পরিমান ফলোয়ার ও এনগেজমেন্টপান, তাহলে বিভিন্ন কোম্পানি আপনাকে তাদের পণ্য বা সার্ভিজ প্রোমোট করার জন্য স্পন্সরশিপ দিতে পারে। ব্র‌্যান্ডরা সাধারণত ইনফলুয়েন্সারদের মাধ্যমে প্রোডাক্ট মার্কেট করে থাকে, তাই যদি আপনার অ্যাকাইন্টে ভালো পরিমাণ ভিউ ও লাইক থাকে, তাহলে সহজেই স্পন্সরশিপ পেতে  পারে। এর জন্য আপনাকে ব্র‌্যান্ডদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে অথবা Tiktok Creator Marketplace- এ জয়েন করতে হবে। এছাড়া ইনস্টাগ্রাম, ফেজবুক ও লিংকডইনে ব্যান্ড ম্যানেজারদের খুঁজে তাদের কাছে কাজের প্রস্তাব পাঠাতে পারেন। ব্যান্ড ডিলের মাধ্যমে আপনি প্রতি মাসে ভালো পরিমান আয় করতে পারবেন। 

২/ লাইভ স্ট্রিমিং করে উপহার ( গিফট ) সংগ্রহ করুন

টিকটক লাইটে যদি আপনার ১০০০+ ফলোয়ার থাকে, তাহলে আপনি লাইভ স্ট্রিম করতে পারবেন এবং দর্শকরা আপনাকে ভার্চুয়াল গিফট পাঠাতে পারবে। এই গিফটগুলো পরবর্তীতে টাকা হিসাবে তুলতে পারবেন। তবে লাইভ স্ট্রিম করে টাকা ইনকাম করতে হলে আপনাকে অবশ্যই ইন্টারেস্টিং কনটেন্ট দিতে হবে, যেমন- গান গাওয়া, কৌতুক বলা, গেম খেলানো, লাইভ প্রশ্নোত্তর করা বা কোন বিশেষ বিষয়ে আলোচনা করা। লাইভ স্ট্রিমিং চলাকালীন সময় দর্শকদের সাথে ইন্টার একশন বাড়াতে গিফট পাওয়ার সম্ভাবনা আরো বাড়বে। লাইভ স্ট্রিমিং থেকে অনেক ইনফ্লুয়েন্সার মাসে হাজার হাজার টাকা আয় করছে।

৩/ অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে কমিশন ইনকাম করুন

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হল এমন একটি উপায়, যেখানে আপনি অন্য কোন কোম্পানির পণ্য বা সার্ভিস প্রচার করবেন এবং কেউ যদি আপনার শেয়ার করা লিংক এর মাধ্যমে সে পণ্য কেনে, তাহলে আপনি কমিশন পাবেন। আপনি আমাজন, দারাজ, ক্লিপ ব্যাংক, সিপিএ মার্কেটিং- এর মত বিভিন্ন অ্যাপ্লিকের প্রোগ্রামের জয়েন করতে পারেন। tiktok লাইটে আপনি কোন প্রোডাক্টের রিভিউ দিয়ে বা ছোট প্রোমো ভিডিও বানিয়ে বায়োতে সেই পণ্যের কাজ আছে অনেক কাজ আছে যা অ্যাফিলিয়েট লিংক শেয়ার করতে পারেন।  যদি আপনার ভিডিও ভাইরাল হয়, তাহলে অনেক মানুষ আপনার লিংকে ক্লিক করে পণ্য কিনবে, ফলে আপনার কমিশন ইনকাম বাড়বে।

৪/ নিজের পন্য় বা সার্ভিজ বিক্রি করুন  

যদি আপনার কোন ব্যবসা বা পণ্য থাকে তাহলে tik tok লাইট কে মার্কেটিং টুল হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। এখানে ডিজিটাল পণ্য যেমন ই বুক, অনলাইন কোর্স, কাস্টমাইজেস টি -শার্ট, প্রিন্টেড গিফট আইটেম বিক্রি করতে পারেন। অনেক ব্যবসায়ী এখন টিকটকের মাধ্যমে তাদের প্রোডাক্ট এর ভিডিও তৈরি করে বেশি বিক্রি করছেন। আপনি যদি কোন নির্দিষ্ট বিষয়ে দক্ষ হন, তাহলে অনলাইন কোচিং দিতে পারেন। যেখানে আপনি বিভিন্ন স্কিল শেখানোর বিনিময়ে অর্থ আয় করতে পারেন। tiktok লাইট থেকে আপানার ওয়েবসাইট বা অন্য সোশ্যাল  মিডিয়ায় ট্রাফিক নিয়ে গিয়ে বিক্রি বাড়ানো সম্ভব।

৫/ ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম বা অন্য প্ল্যাটফর্মে ট্রাফিক নিয়ে যান 

টিকটক লাইভ থেকে সরাসরি টাকা না পেলেও আপনি এটি ব্যবহার করে আপনার ইউটিউব চ্যানেল বা instagram এর জন্য ভিউয়ার আনতে পারবেন। আপনি যদি ইউটিউবে কন্টেন ক্রিয়েটর হন এবং আপনার চ্যানেলের মনিটাইজেশন চালু থাকে, তাহলে আপনার টিক টক ভিডিওতে youtube এর লিঙ্ক দিয়ে দর্শকদের সেদিকে নিয়ে যেতে পারেন। একইভাবে, আপনি ইনট্রাগ্রা, বা ফেসবুকে ট্রাফিক পাঠিয়ে স্পন্সরশিপ বা ব্যান্ড ডিল পেতে পারেন। এই কৌশল ব্যবহার করে অনেক ইনফলুয়েন্স বড় তৈরি করছে এবং অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সরাসরি ইনকাম করছে। 

৬/ টিকটক অ্যাকাউন্ট বিক্রি করুন এবং অর্থ উপার্জন করুন

আপনি যদি নতুন একাউন্ট তৈরি করে সেটিকে এক হাজার বা তার বেশি ফলোয়ার নিয়ে যেতে পারেন, তাহলে সেটি বিক্রি করে টাকা ইনকাম করতে পারেন। অনেক ব্র্যান্ড ই-কমার্স ব্যবসায়ী বা ডিজিটাল মার্কেটর তাদের প্রচারণার জন্য রেডিমেড টিকটক একাউন্ট কিনে নেই। সাধারণত বেশি ফলোয়ার ও এনগেজমেন্ট থাকলে একটি অ্যাকাউন্টের দাম বেশি হয়। আপনি ফেসবুক গ্রুপ ডিজিটাল মার্কেটিং ফোরাম বা ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে গিয়ে এসব অ্যাকাউন্ট বিক্রির জন্য বিজ্ঞাপন দিতে পারেন। এটি একটি লাভজনক উপায় যা অনেকেই ব্যবহার করছে।

৭/ টিকটক কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে ফ্রিল্যান্সিং করুন

আপনি যদি ভিডিও এডিটিং কন্টেন আইডিয়া তৈরি বা সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিংয়ে দক্ষ হন, তাহলে টিকটকের জন্য কনটেন্ট বানিয়ে অন্যদের কাছে বিক্রি করতে পারেন। অনেক কোম্পানিও ইনূফলুয়েন্সার তাদের তাদের টিকটকরে জন্য ভালো মানের ভিডিও চায়, কিন্ত তাদের সময় বা দক্ষতা নেই। আপনি ফাইভার, আপওয়ার্ক, পিপলপারআওয়ার-এর মতো ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্মে গিয়ে টিকটক ভিডিও এডিটিং বা কনটেন্ট ক্রিয়েশনের সার্ভিস ‍দিতে পারেন। এই উপায়ে অনেকে ফ্রিল্যান্সার মাসে ৫০,০০০ - ১,০০,০০০ টাকা পযন্ত টাকা ইনকাম করেছে। 

TikTok Lite ব্যবহারের সুবিধা ও অসুবিধা

✅সুবিধা
  • কম স্টোরেজ ও RAM ব্যবহার করে। 
  • ধীর গতির ইন্টারনেটও ভালো চলে। 
  • দ্রুত ইনস্টল হয় ও ব্যাটারি কম খরচ করে।
  • কম ডাটা খরচে ভিডিও দেখা যায়। 
✖অসুবিধা
  • লাইভ স্ট্রিমিং অপশন নেই। 
  • ভিডিও এডিটিং ও ফিল্টার সীমিত। 
  • কিছু ইনকাম ফিচার TikTok Lite- এ কাজ নাও করতে পারে। 

শেষ কথা

TikTok Lite হলো হালকা সংস্করণের টিকটক যা কম ডাটা ও স্টোরেজ ব্যবহার করে দ্রুত পারফরম্যান্স দেয়। এটি সাধারন টিকটক এর মতোই তবে কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। যদি আপনি ভিডিও দেখতে ও হালকা বিনোদনের জন্য ব্যবহার করতে চান, তাহলে এটি ভালো বিকল্প। তবে, ইনকাম ও উন্নত এডিটিং ফিচারের জন্য মূল TikTik অ্যাপই সেরা। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

সাগর ম্যাক্স এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url