সুকুমার রায়ের হাসির গল্প- শিক্ষনীয় হাসির ছোট গল্প
আসসালামু আলাইকুম বন্ধুরা সুকুমার রায়ের হাসির গল্প দুই বন্ধু।
৩১ টি হুমায়ন আহামমেদে প্রেমের বণি
এক ছিল মহাজন আর এক ছিল সওদাগর। দুজনে ভারী ভাব।একদিন মহাজন এক থলির মোহর নিয়ে তার বন্ধুকে বললো’ভাই, কদিনের জন্য বাড়ি যাচ্ছি; আমার কিছু টাকা তোমার কাছে রাখতে পারবে?
সওদাগর বলল, পারব না কেন? তবে কি জানো পরের টাকা হাতে রাখা আমি পছন্দ করি না। তুমি বন্ধু মানুষ তোমাকে আর বলার কি আছে, আমার ওই সিন্দুকটি খুলে নিজেই তার মধ্য তোমার টাকাটা রেখে দাও আমিও টাকা ছোব না।
তখন মহাজন তার থলে ভরা মোহর সেই সওদাগরের সিন্দুকের মধ্যে রেখে নিশ্চিন্ত মনে বাড়ি গেল। এদিকে হয়েছে কি, বন্ধু যাওয়ার পরে সওদাগরের মনটা কেমন উসখুস করছে। সে কেবলি ওই টাকার কথা ভাবছে আর তার মনে হচ্ছে যে বন্ধু না জানি কত কী রেখে গেছে! একবার খুলে দেখতে দোষ কি?
আরো পড়ুনঃ শিক্ষামূলক উক্তি-দৃষ্টি ভুঙ্গি নিয়ে উক্তি- পৃথিবীর সেরা উক্তি
এই ভেবে সেই সিন্দুকের ভেতর উঁকি মেরে থলিটা খুলে দেখল থলি ভরা চকচকে মোহর!
এতগুলো মোহর দেখে সওদাগরের ভয়ানক লোভ হল সে তাড়াতাড়ি মোহরগুলো সরিয়ে তার
জায়গায় কতগুলো পয়সা ভড়ে থলিটাকে বন্ধ করে রাখল।
দশ দিন পরে তার বন্ধু যখন ফিরে এলো, তখন সওদাগর খুব হাসি মুখে তার সঙ্গে
গল্পস্বল্প করতে লাগলো, কিন্তু তার মনটাকে বলি বলতে লাগলো, কাজটা ভালো হয়নি।
বন্ধু এসে বিশ্বাস করে টাকাটা রাখল, তাকে ঠকানো উচিত হয়নি। একথা সেকথার পর মহাজন
বললো, তাহলে বন্ধু আজকে টাকাটা নিয়ে উঠি সেটা কোথায় আছে?
সওদাগর বলল, হ্যাঁ বন্ধু, সেটা নিয়ে যাও। তুমি যেখানে রেখেছিলে সেইখানেই পাবে
আমি থলিটা আর সরাইনি। বন্ধু তখন সিন্দুক খুলে তার থলিটা বের করে নিল। কিন্তু, কি
সর্বনাশ! থলি ভরা মোহর ছিল, সব গেল কোথায়? সবচেয়ে কেবল পয়সা! মহাজন মাথায় হাত
দিয়ে বসে পড়লো!
সওদাগর বলল, ও কি বন্ধু! মাটিতে বসলে কেন? বন্ধু বলল, ভাই, সর্বনাশ হয়েছে!
আমার থলি ভরা মোহর ছিল এখন দেখছি একটাও মোহন নাই, কেবল কতগুলো পয়সা!
সওদাগর বলল, তাও কি হয়? মোহর কখনও পয়সা হয়ে যায়? সওদাগর চেষ্টা করছে এরকম ভাব
দেখাতে যেন সে কতই আশ্চর্য হয়েছে; কিন্তু তার বন্ধু দেখল তার মুখ খানা একেবারে
ফ্যাকাসে হয়ে গেছে।
ব্যাপারটা বুঝতে তার আর বাকি রইল না তবু সে কোন রকম রাগ না দেখিয়ে হেসে বলল, মনে
করে রেখেছিলাম এখন দেখছি পয়সা, আচ্ছা বাদ দাও কোথাও কোন গোল হয়ে
থাকবে।
যাক যা গেছে তা গেছে সে ভাবনায় আর কাজ নেই। এই বলেছে সওদাগরের কাছে বিদায় নিয়ে
পয়সার থলি বাড়িতে নিয়ে গেল। সওদাগর হাফ ছেড়ে বাঁচল।
দুই মাস পরে হঠাৎ একদিন মহাজন তার বন্ধুর বাড়িতে এসে বলল, বন্ধু, আজ আমার বাড়িতে পিঠে হচ্ছে বিকেলে তোমার ছেলেটিকে পাঠিয়ে দিও! বিকেলবেলা সওদাগর তার ছেলেকে নিয়ে মহাজনের বাড়িতে রেখে এলো আর বলল, সন্ধ্যার সময় এসে নিয়ে যাব।
আরো পড়ুনঃ নির্দেশনা মূলক প্রযুক্তি কাকে বলে-শিক্ষা মূলক প্রযুক্তির গুরত্ব
মহাজন করল কি, ছেলেটার পোশাক বদলে তাকে কোথায় লুকিয়ে রাখল আর একটা বাঁদরকে সেই
ছেলে পোশাক পরিয়ে ঘরের মধ্য বসিয়ে দিল।
সন্ধ্যার সময় সওদাগর আসতেই তার বন্ধু এসে মুখখানা হাড়ের মতো করে বলল, ভাই!
একটা বড় মুশকিলে পড়েছি। তোমার ছেলেটিকে তুমি যখন দিয়ে গেলে, তখন দেখলাম
দিব্যি কেমন নাদুস-নুদুস ফুটফুটে চেহারার কিন্তু এখন দেখছি কি রকম হয়ে গেছে। ঠিক
যেন বাঁদরের মতো দেখাচ্ছে! কি করা যায় বলতো বন্ধু!
কি ব্যাপারটা দেখে সওদাগরের তো চোখ খুঁজছিস সে বলল, পাগলের মত বকছো? মানুষ কখনোও
বাঁদর হয়ে যায়? মহাজন অত্যন্ত ভালো মানুষের মতো বলল, কি জানি ভাই! কাল কি সব
ভুতের কান্ড হচ্ছে, কিছু বুঝবার জোর নেই। এই দেখ না সেদিন আমার সোনার
মোহরগুলো খামখা বদলে সব তামার পয়সা হয়ে গেল। অদ্ভত ব্যাপার!
তখন সওদাগর রেগে বন্ধুকে গালাগালি দিয়ে কাজির কাছে দৌড়ে গেল নালিশ করতে। কাজির হুকুমে চার প্যায়দা এসে মহাজনকে পাকড়াও করে কাজির সামনে হাজির করলে। কাজি বলল, তুমি এর ছেলেকে নিয়ে কি করেছ? শুনে চোখ দুটো গোল করে মস্ত বড় হা করে মহাজন বললো, আমি? আমি মুখ্যু-সুখ্যু মানুষ, আমি কি অত সব বুঝতে পারি?
হুজুর! ওর বাড়িতে মোহর রাখলাম, দশ দিনে সব পয়সা হয়ে গেলো। আবার দেখুন ওর ছেলেটা আমার বড়িতে আসতে না আসতেই ল্যাজ গজিয়ে দস্তরমতো বাঁদর হয়ে উঠেছে। কি রকম যে হচ্ছে আমার বোধ হয় সব ভূতেড়ে কান্ড। এই বলে সে কাজিকে লম্বা সেলাম করতে লাগল। কাজিও চালাক লোক ব্যাপার টা বূঝতে তার বাকি রইলো না। তিনি বললেন, আচ্ছা, তোমরা ঘরে যাও। আমি দৈবঙ্গ ফকির ডাকিয়ে মন্ত্র পড়ে ভূত ঝাড়িয়ে সব সায়েস্তা করছি। তোমার পয়সার থলি ওর কাছে দাও আর তোমার বাঁদর ছেলেকে এর কাছেই রাখ।
কাল সকালের মধ্যে সব যদি ঠিক না হয় তবে বুঝব এতে তোমাদের কারুর শয়তানি আছে।সাবধান! তাহলে তোমার পয়সাও পাবে ন, মোহরও পাবে না আর তোমার ছেলে তো মরবেই, ছেলের বাপ মা খুড়ো জ্যাঠা সবসুদ্ধ মেরে সবাড় করব।
সওদাগর পয়সার থলি সঙ্গে নিয়ে ভাবতে ভাবতে গরে চলল। মহাজনে বাঁদর নিয়ে হাসতে হাসতে বাড়ি ফিরল। ভোর না হতেই সওদাগর থলির মধ্যে আবার মোহর ভরে মহাজনের বাড়ি গিয়ে বলছে, বন্ধু! বন্ধু,কি আশ্চর্য দেখো! তোমর পয়সাগুলো আবার মোহর হয়েছে।
মহাজন বললো, তাই নাকি? কি আশ্চর্য এদিকে সে বাদঁরটাও আবার তোমার খোকা হয়ে গেছে। তারপর মোহরের থলি নিয়ে সওদাগরের ছেলেটাকে ফিরিয়ে দিয়ে মহাজন বললো, দেখ জোচ্চোর! ফের আমায় আমায় বন্ধু বন্ধু বলবি তো মেরে তোর থোঁতামুখ ভোতা করে দেব।
বন্ধুরা গল্পটি ভালো লেগে থাকলে কমেন্ট করে জানাবেন। ধন্যবাদ সঙ্গে থাকার জন্য।
সাগর ম্যাক্স এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url