নাপাক অবস্থায় রোজা রাখা যাবে কি না ? রাখলে কি হবে।

 যদি গোসল ফরজ হয় বিশেষ করে স্ত্রী সহবাসের মাধ্যমে, তাহলে খুব বিলম্ব না করে খুবই তাড়াতাড়ি গোসল করে নেওয়া উচিত ও উত্তম। যদি বিলম্ব করতে হয় তাহলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন কমপক্ষে ওযু করে নিন অথবা ওযু না করে তাওমোম করে নিবে। যদি এটাও না করে তারপরেও আপনি সেই অবস্থায় স্বাভাবিক সাংসারিক বা অন্য কাজ কর্ম করেন তারপরেও সেটা গুনহারের পর্যায়ে যাবে না, হারামের পর্যায়ে যাবে না এ ব্যাপারে সকলের একমত।

নাপাক অবস্থায় রোজা রাখা যাবে কি না ? রাখলে কি হবে।

কিন্তু আমাদের সামাজিক প্রেক্ষাপটে আমরা যেটা দেখি মেয়েদের ক্ষেত্রে শাশুড়ি হোক ননদ হোক বা অন্য কেউ থার্ড পার্সন থেকে দেখা হয়, যে সহবাসের পর সে সংসারের কোন কাজকর্ম করতে পারবে না, বাচ্চাকে দুধ খাওয়াতে পারবেনা, সে এইটা করতে পারবে না, ওইটা করতে পারবে না, রান্না করতে পারবে না। এগুলো সম্পূর্ণ মনগড়া কথাবাত্রা কোরআন হাদিসে কোথাও এইটা বলা নাই।

পোস্ট সূচিপত্রঃ গোসল ফরজ অবস্থায় রোজা রাখা যাবে-নাপাক অবস্থায় রোজা রাখা যাবে কি?

স্ত্রী সহবাসের পর ফরজ গোসল না করে সেহরি খেলে রোজা হবে কিনা?

নাপাক বা অপবিত্র অবস্থায় বা গোসল ফরজ হওয়া অবস্থায় যদি কেউ সাহারি খায় তাহলে রোজা হবে কিনা? সিয়াম হবে কিনা? আমাদের অনেক ভাই বোন জানতে চান যে, এমনও হতে পারে যে গোসল ফরজ হয়েছে এই মুহূতে তিনি  সাহারি খাচ্ছে। গোসল করতে গেলে সাহারি খাওয়ার সময় থাকবে না শেষ হয়ে যাবে অথবা অন্য কোনো কারনে আপনি সাহারি খেলেন বা ওযু না করা অবস্থায় সাহারি খেলেন। যদি অপবিত্র অবস্থায় যদি সাহারি খান তাহলে আপনার রোজা হবে কিনা? 

হ্যা, আপনার রোজা হবে কোনো প্রকার সমস্যা হবে না। তবে একেজন ইমান্দার বান্দার জন্য খুব বেশি সময় অপবিত্র থাকা উচিৎ নয় সেটা ভিন্ন কথা। কিন্তু রমজান মাসের সিয়াম সুদ্ধ হওয়ার জন্য পবিত্র হওয়ার কোনো সর্ত্য কুরআন হাদিসের কোথাও আরপ করা হয়নি। অথেইব, আমি যদি অপবিত্র অবস্থায় সাহারি খাই তাহলে আমার রোজা হয়ে যাবে কোনো সমস্যা না ইনশাআল্লাহ। তবে মনে রাখতে হবে যে সাহারি অপবিত্র অবস্থায় আমি খেয়ে ফেললাম এইটুক চললো, ফজরের সালাত পুরুষের জন্য জামাতে আদায় করতে হবে সে জন্য ফজরের সালাতের আগে আগে দ্রুত পবিত্রতা অর্জন করে নিয়ে, গোসল ফরজ হলে গোসল, ওযু ফরজ হলে ওযু করে নিয়ে তারপর তাকে জামাতে সামিল হতে হবে। কারন সিয়াম রাখা যত গুরুত্বপূর্ণ তার থেকে সালাত আদায় করার গুরুত্ব অনেক বেশি। আমরা যদি অপবিত্র অবস্থায় সাহারি খেয়ে ফেলি তাহলে আমাদের সিয়াম হয়ে যাবে কিন্তু আমাদের ফজরের সালাতের জন্য অবশ্যয় আমাদের গোসল করতে হবে। আল্লাহতালা আমাদের সঠিকভাবে ও 
বিশুদ্ধভাবে সিয়াম পালন করার তৌফিক দান করুন। আমিন। 

রোজা রেখে স্বামী স্ত্রী কি কি করতে পারবে

যরা বিবাহিত ‍দিনের বেলায় ভালোবাসার আত্নিস্বাদে তার স্ত্রী কে জরিয়ে ধরে কিংবা চুমু খাই এই কিসিং এর কারনে বা হাগিং এর কারনে রোজা ভঙ্গেনা। কিন্তু আমরা পরামর্শ দিবো আমরা যেনো এধরনের কাজে যেন দিনের বেলাই জরিয়ে না পরি। কারন আপনি যদি আপনার বিবাহিত স্ত্রী কে জরিয়ে ধরেন বা কিস করেন, এতে আপনি এক পর্যায়ে সেক্সোয়ালি ফাইনাল পর্যায়ে চলে যেতে পারেন। আমরা আগেই এব্যপারে সর্তকতা দিয়েছি আপনার সুধু কাযা করলে হবে না কাফফারাও দেওয়া লাগবে এটা একটা বড় ধরনে  ওয়ারনিং এবং মহাবিপদে তখন আপনি পরে যাবেন। এজন্য আমরা পরামর্শ দিয়ে থাকি দিনের বলেই আমরা এধরনের কাজ যেন না করি। 

তারপরেও ভালোবাসার আত্নিস্বাদ যে দিনের বেলাই আপনার স্ত্রী যদি জরিয়ে ধরেন বা চুমু খান তাহলে কিন্তু আপনার রোজা ইনশাআল্লাহ ভাংবে না। এর দলিল হচ্ছে সহিমুসলিমের হাদিস আম্মাজান আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আল্লাহ রাসুল সাঃ এর প্রিয়তম সহধর্মিনী তিনি বলেছেন রাসূল দিনের বেলায় আমাকে চুমু দিতেন ও তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরতেন আগলে রাখতেন রোজা রাখা অবস্থায়। চুমু দিলে বা জড়িয়ে ধরলে কিস করলে বা হাক করলে এতে কোন সমস্যা হবে না এতে করে আপনার রোজা ভাঙবে না। কিন্তু এটা আমরা সাজেস্ট করি না এতে করে আপনি বড় ধরনের কবিরা গুনা লিপ্ত হয়ে যেতে পারেন। কারো যদিও এরকম কন্ট্রোল মন মাইন্ড থাকে তাহলে এরকম ধরনের ঘটনা যদি ঘটে যায় তাহলে কোন সমস্যা হবে না।

নাপাক অবস্থায় রোজা রাখা যাবে কি

গোসল ফরজ অবস্থায় রোজা রাখা যাবে-নাপাক অবস্থায় রোজা রাখা যাবে কি?


অনেকে আবার প্রশ্ন করেন যে আমার শরীরটা নাপাক, রাত্রেবেলা আমার শরীর নাপাক হয়েছে আমার উপরে গোসল ফরজ এই অবস্থায় আমার চোখ লেগে গিয়েছিল আমি ঘুমিয়ে পড়েছি। আছে ঘুমের থেকে উঠে দেখি সাহারির আর মাত্র ১০ মিনিট সময় আছে। এখন যদি আমি গোসল করতে যাই তাহলে আমি সেহরি খেতে পারব না, কিন্তু আমি নাপাক ছিলাম নাপাক থাকা অবস্থায় সেহরি খাওয়া যাবে কিনা বা আমার রোজা হবে কিনা?

এক্ষেত্রে আম্মাজান আয়েশা সিদ্দিকা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা ও উম্মে সালামা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা থেকে একটি হাদিস এসেছে বুখারী শরীফের ৯২৫ নম্বর হাদিস। অনেক সময় দেখা যেত নবীজির হালাত টা এমন হতো সুতরাং যদি কোন ব্যক্তি অপবিত্র অবস্থায় সাহারি করেন এবং পরবর্তীতে তিনি গোসল করলেন সে খাওয়ার পর বা রোজা শুরু হওয়ার পর অসুবিধা নেই তার রোজাটা হবে। তবে ফজরের সালাত আদায় করতে হবে সেজন্য বসন্ত মসজিদে চলে যান।

সহবাসের পর গোসল না করলে কি ক্ষতি হয়

সহবাসের পর মেয়েদের জন্য ফরজ গোসল না করে ঘরে কাজকাম রান্না বান্না ইত্যাদি করা বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানো এগুলো জায়েজ আছে কিনা জায়েজ? গোসল ফরজ অবস্থায় গোসল না করার আগ পর্যন্ত কাজ করা নিষেধ। 

১ . নামাজ পড়া।
২. তাওয়াফ করা নিষেধ।
৩. মসজিদে প্রবেশ করা নিষেধ। 
৪. কুরআন স্পর্শ করা নিষেধ।
৫. কোরআন শরীফ পড়া নিষেধ।

এই পাঁচটি কাজ ছাড়া কোন কাজে নিষিদ্ধ না। অতএব সহবাসের পরে কোন ছেলে বা মেয়ে ফরজ গোসল না করে গৃহস্থলীর কাজ করেন, রান্নাবান্না করেন, অন্যান্য কাজকর্ম করেন, বাচ্চাকে দুধ খাওয়ান, এগুলো যেহেতু এই পাঁচটি কাজে আওতায় নাই সেজন্য এই কাজগুলো জায়েজ আছে।

আমাদের দেশের যত কঠোরতা সব মেয়েদের উপরে, ছেলেদের উপরে নাই ছেলের গোসল ফরজ হয়েছে দু চার ঘন্টা শুয়ে রয়েছে বা উঠে হাটাহাটি করছে তাকে তেমন কেউ কিছু বলে না। সমস্ত চাপ গুলা মেয়েদের উপরে আর এই ফতোয়াগুলা বেশিরভাগ মেয়েদের উপরে দেয় মেয়েরাই। কথার কথা ননদ আছে শাশুড়ি আছে বা অন্য কেউ আছে, তো তারা খোঁচাইতে শুরু করে যে গোসল না করে বাচ্চাকে দুধ খাওয়াচ্ছে কেন বাচ্চা কাঁদতে কাঁদতে মরে যায় কিন্তু দুধ খাওয়ায় না। ফরজ না করে পাঁচটি কাজ করা নিষেধ এর বাহিরে আর কোন কাজ নিষিদ্ধ না। অতএব এমনকি আপনি রোজাও রাখতে পারেন ফরজ গোসল না করে, খেতে পারেন সাহারি খেয়ে রোজা শুরু করতে পারেন। বাসায় কাজ করতে পারবেন না কে বলেছে বাচ্চাকে দুধ খাওয়াতে পারবেন না কে বলেছে? যদি ফরজ গোসল কোন কারণে একটু দেরিতে করতে চান তাহলে কাজের সুবিধার্থে ওযু করে নিতে পারেন।

মাসিকের পর গোসল না করে রোজা রাখা যাবে কি

গোসল ফরজ অবস্থায় রোজা রাখা যাবে-নাপাক অবস্থায় রোজা রাখা যাবে কি?


মাসিক শেষ হবার পর ফরজ গোসল না করে রোজা রাখলে হবে কিনা? সে রোজা আল্লাহর কাছে কবুল হবে কিনা সেই বিষয়ে সম্পর্কে আপনাদেরকে বিস্তারিত জানাবো। তো পোস্টটি সম্পূর্ণ মনো যোগ সহকারে পড়ার অনুরোধ রইল। তো প্রিয় দর্শক দেখুন রোজা রাখার উদ্দেশ্যে। শেষ রাতে ঊষা উদয়ের আগে যে খাবার গ্রহণ করা হয়, তা সেহেরী হিসেবে পরিচিত। রোজা রাখার নিয়তে সেহেরি খাওয়া সুন্নত। তবে স্বপ্নদোষ বা স্বামী স্ত্রী সহবাসের পর গোসল করা ফরজ। এ ফরজ গোসল করে যদি সেহরি খাওয়া হয় তাহলে রোজা হবে কিনা, তা নিয়ে অনেকের মনে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব রয়েছে। রমজান মাসে রোজা পালনের উদ্দেশ্যে সেহেরি খাওয়া সুন্নত। ইসলামী চিন্তাবিদরা বলেছেন, নিয়ম অনুযায়ী গোসল ফরজ হওয়ার পর খাওয়া-দাওয়া ও অন্যান্য কাজের আগে পবিত্র হয়ে নেয়া উত্তম।

তবে যদি কেউ এমন অবস্থায় পড়েন যে, ফরজ গোসল করে সেহরি খাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় নেই, তখন ওযু করে বা হাত মুখ ধুয়ে আগে ছেড়ে খেয়ে নেবেন। পরে গোসল করে ফজরের নামাজ আদায় করবেন। কারণ সেহরি খাওয়ার জন্য পবিত্রতা ফরজ নয়, বরং সুন্নত। আর নামাজ আদায় করার জন্য পবিত্রতা ফরজ। গোসল ফরজ হলে যত দ্রুত সম্ভব, তা করে নিতে হবে। বিনা অজরে বেশি সময় অপবিত্র অবস্থায় থাকা সীমীচীন নয়। আর রমজানে রোজা অবস্থায় অধিক ক্ষণ অপবিত্র অবস্থায় থাকা মোটেও বাঞ্ছনীয় নয়। এতে রহমতের ফেরেশতাদের কষ্ট হয়। তাই দ্রুত পবিত্রতা অর্জন করা জরুরি।

শেষ মন্তব্য

তো প্রিয় দর্শক ও সুপ্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন মাসিকের পর ফরজ গোসল না করেও আপনি সেহরি খেতে পারবেন, এতে করে আপনার রোজা হয়ে যাবে। তবে আপনাকে অবশ্যই ফজরের নামাজের আগে, ফরজ গোসল করে আপনি আপনাকে নামাজ আদায় করতে হবে। আর যদি আপনি এটা না করেন তাহলে আপনার গুনাহ হয়ে যাবে। কারণ সেহরি খাওয়ার জন্য গোসল ফরজ নয় কিন্তু নামাজ পড়ার জন্য গোসল ফরজ, তাই অবশ্যই এই বিষয়গুলো মেনে চলার চেষ্টা করবেন। আল্লাহ তা'আলা সকলকে সঠিক বুঝ ও দিনের পথে চলার তাওফিক দান করুন। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন, আসসালামু আলাইকুম। আল্লাহ হাফেজ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

সাগর ম্যাক্স এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url